ব্যবহার
বিটাক্যারোটিন একটি প্রাকৃতিক কমলা-হলুদ রঙের উপাদান, যা গাজর, মিষ্টি কুমড়া, আম ও সবুজ শাকসবজিতে পাওয়া যায়। শরীর প্রয়োজনমতো এটিকে ভিটামিন এ তে পরিণত করে। এটি ব্যবহার হয়:
- খাবার কম পুষ্টিকর হলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সাপ্লিমেন্ট হিসেবে, প্রায়ই ভিটামিন সি, ই ও খনিজের সাথে মিলিয়ে।
- ভিটামিন এ এর ঘাটতি প্রতিরোধে।
- ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে, এরিথ্রোপোয়েটিক প্রটোপরফাইরিয়া নামের একটি বিরল রোগে সূর্যের আলোতে ত্বকের সংবেদনশীলতা কমাতে।
কীভাবে কাজ করে
বিটাক্যারোটিন অন্ত্র ও লিভারে শুধু শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন এ তে পরিণত হয়, তাই সরাসরি ভিটামিন এ এর চেয়ে এতে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কম আলোতে দেখা, সুস্থ ত্বক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য ভিটামিন এ দরকার। বিটাক্যারোটিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে, কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- সাপ্লিমেন্ট হিসেবে, প্রাপ্তবয়স্ক: প্যাকেটের নির্দেশমতো, সাধারণত দিনে ১টি ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল।
- আলোর প্রতি সংবেদনশীলতার রোগে: ডাক্তারের নির্দেশমতো।
- শিশু: শুধু ডাক্তারের নির্দেশমতো।
কিছুটা চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে খান, এতে শোষণ ভালো হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অরলিস্ট্যাট, কোলেস্টিরামিন, খনিজ তেলের জোলাব ও কিছু কোলেস্টেরলের ঔষধ এর শোষণ কমাতে পারে।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অন্য ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টের সাথে মিলিয়ে খাবেন না।
- নিয়মিত অনেক অ্যালকোহল পানে বেশি মাত্রায় লিভারের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
- বিটাক্যারোটিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- যারা ধূমপান করেন বা সম্প্রতি ছেড়েছেন, এবং যারা অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শে আসেন, তাদের জন্য বেশি মাত্রার সাপ্লিমেন্ট, কারণ গবেষণায় এতে ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে দেখা গেছে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত সহনশীল। বেশি খেলে ত্বক, বিশেষ করে হাতের তালু ও পায়ের তলা, হলুদ-কমলা হয়ে যেতে পারে; এটি ক্ষতিকর নয় এবং বন্ধ করলে চলে যায়। পাতলা পায়খানা, মাথা ঘোরা ও গাঁটে ব্যথা অস্বাভাবিক।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, সারা শরীরে র্যাশ বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দেয়। চোখের সাদা অংশ হলুদ হলে ডাক্তার দেখান, কারণ এটি বিটাক্যারোটিনের কারণে হয় না এবং লিভারের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খাবার থেকে পাওয়া বিটাক্যারোটিন নিরাপদ। স্বাভাবিক মাত্রার সাপ্লিমেন্ট সাধারণত গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়, তবে শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খান এবং ভিটামিন এ যুক্ত একাধিক পণ্য একসাথে খাবেন না।
সতর্কতা
- ধূমপায়ী ও প্রাক্তন ধূমপায়ীরা বেশি মাত্রার বিটাক্যারোটিন সাপ্লিমেন্ট খাবেন না।
- লিভার বা কিডনি রোগে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- ফল ও সবজিসহ সুষম খাবারই সবচেয়ে ভালো উৎস।
- নির্দেশিত মাত্রার বেশি খাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অনেক বেশি খেলে মূলত ত্বক হলুদ-কমলা হয়ে যায়, যা বন্ধ করলে চলে যায়। শরীর শুধু প্রয়োজনীয় অংশ ভিটামিন এ তে পরিণত করে বলে গুরুতর ভিটামিন এ বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা কম, তবে কোনো শিশু অনেক বেশি খেয়ে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন এ এর পূর্বসূরি (প্রোভিটামিন এ); অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সাপ্লিমেন্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। পাত্র শক্ত করে বন্ধ রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।