ব্যবহার
বায়োটিন (ভিটামিন বি৭, যাকে ভিটামিন এইচও বলা হয়) বায়োটিনের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। এই ঘাটতি খুব কম হয়; ভিটামিন ছাড়া দীর্ঘদিন টিউব বা শিরায় খাবার, কিছু বংশগত এনজাইমের সমস্যা, কিছু খিঁচুনির ঔষধের দীর্ঘ ব্যবহার বা প্রায়ই কাঁচা ডিমের সাদা অংশ খেলে হতে পারে। চুল, ত্বক ও নখের যত্নে এটি ব্যাপকভাবে বিক্রি হয়, তবে এর ভালো প্রমাণ মূলত ঘাটতিআক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রেই আছে।
কীভাবে কাজ করে
বায়োটিন খাবারের চর্বি, শর্করা ও প্রোটিনকে শক্তিতে রূপান্তরকারী এনজাইমকে সাহায্য করে এবং সুস্থ ত্বক, চুল ও স্নায়ুর জন্য দরকার।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক, সাধারণ সাপ্লিমেন্ট: দিনে প্রায় ৩০ থেকে ১০০ mcg স্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করে।
- চুল ও নখের সাপ্লিমেন্টে প্রায়ই দিনে ২.৫ থেকে ১০ mg থাকে; এগুলো শুধু প্যাকেটের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খান।
- বংশগত রোগ ও শিশু: প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
খাবারের আগে বা পরে মুখে খাওয়া যায়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন, ফেনোবার্বিটাল ও প্রিমিডোনের দীর্ঘ ব্যবহারে বায়োটিন কমে যেতে পারে। কাঁচা ডিমের সাদা অংশের একটি প্রোটিন বায়োটিনের শোষণ আটকায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বায়োটিন অনেক রক্ত পরীক্ষার ফলাফল বদলে দিতে পারে (সতর্কতা অংশ দেখুন)।
কারা খাবেন না
বায়োটিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত খুব ভালোভাবে সহ্য হয়। কখনও হালকা বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি বা র্যাশ হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে বা সারা শরীরে র্যাশ হলে, অর্থাৎ মারাত্মক এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণ পরামর্শকৃত পরিমাণে নিরাপদ। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি মাত্রার সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
বেশি মাত্রার বায়োটিন থাইরয়েড পরীক্ষা ও ট্রপোনিন (হার্ট অ্যাটাক নির্ণয়ের পরীক্ষা) সহ অনেক ল্যাব পরীক্ষায় ভুলভাবে বেশি বা কম ফল দিতে পারে, যাতে ভুল রোগ নির্ণয় হতে পারে। বায়োটিন খাওয়ার কথা সবসময় ডাক্তার ও ল্যাবকে জানান; রক্ত পরীক্ষার কয়েক দিন আগে এটি বন্ধ রাখতে বলা হতে পারে। চুল পড়া ও ভঙ্গুর নখের অনেক কারণ থাকে, তাই সমস্যা না কমলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বাড়তি বায়োটিন প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়, তাই সরাসরি ক্ষতি খুব কম হয়। মূল ঝুঁকি হলো ল্যাব পরীক্ষার ভুল ফল। অসুস্থ বোধ করলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন বি (পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।