ব্যবহার
এলিমেন্টাল আয়রন হলো কোনো আয়রন লবণ (যেমন ফেরাস সালফেট, ফেরাস ফিউমারেট বা আয়রন পলিমল্টোজ কমপ্লেক্স) থেকে শরীর আসলে যতটুকু আয়রন পায়। আয়রনের ঘাটতি ও আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়, যেমন মাসিকে বেশি রক্তক্ষরণ, রক্ত হারানো, গর্ভাবস্থা, অপুষ্টি বা শিশুদের দ্রুত বেড়ে ওঠার সময়। প্রায়ই ফলিক এসিড, জিংক বা ভিটামিনের সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
লোহিত রক্তকণিকার যে অংশ অক্সিজেন বহন করে সেই হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রন লাগে। আয়রন সাপ্লিমেন্ট শরীরের আয়রনের মজুত পূরণ করে, ফলে যথেষ্ট সুস্থ লোহিত কণিকা তৈরি হয় এবং রক্তস্বল্পতার ক্লান্তি, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্ট কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- আয়রনের ঘাটতির চিকিৎসা (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত দিনে ১০০ থেকে ২০০ mg এলিমেন্টাল আয়রন, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। কিছু ডাক্তার দিনে একবার বা একদিন পরপর একটি মাত্রা পছন্দ করেন, এতে শোষণ ভালো হতে পারে ও পেটের সমস্যা কম হয়।
- প্রতিরোধ, গর্ভাবস্থাসহ: কম মাত্রা, প্রায়ই দিনে ৩০ থেকে ৬০ mg, পরামর্শ অনুযায়ী।
- শিশু: ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের নির্দেশে।
খালি পেটে, খাবারের প্রায় ১ ঘণ্টা আগে খেলে আয়রন সবচেয়ে ভালো শোষিত হয়। পেটে সমস্যা হলে খাবারের সাথে বা ঠিক পরে খান। কমলার রসের মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ পানীয় শোষণে সাহায্য করে। ঔষধ খাওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যে চা, কফি ও দুধ এড়িয়ে চলুন। রক্তের মাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার পরও মজুত পূরণের জন্য সাধারণত আরও প্রায় ৩ মাস চালিয়ে যেতে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যান্টাসিড, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিংক সাপ্লিমেন্ট আয়রনের শোষণ কমায়।
- আয়রন ডক্সিসাইক্লিন ও অন্যান্য টেট্রাসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও অন্যান্য কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক, লেভোথাইরক্সিন, লেভোডোপা, মিথাইলডোপা, পেনিসিলামিন এবং অ্যালেন্ড্রোনিক এসিডের মতো বিসফসফোনেটের শোষণ কমায়।
- এসব ঔষধ আয়রন থেকে অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান (লেভোথাইরক্সিনের ক্ষেত্রে ৪ ঘণ্টা)।
- একই সময়ে চা, কফি, দুধ, ডিম ও আটা জাতীয় খাবার শোষণ কমায়।
কারা খাবেন না
- শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমার রোগে, যেমন হিমোক্রোমাটোসিস বা হিমোসিডেরোসিস।
- আয়রনের অভাব ছাড়া অন্য কারণে রক্তস্বল্পতায়, যেমন থ্যালাসেমিয়া বা হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া, যদি না ডাক্তার আয়রনের ঘাটতি নিশ্চিত করেন।
- যারা বারবার রক্ত নিচ্ছেন।
- ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, এবং কালো বা গাঢ় রঙের পায়খানা, যা ক্ষতিকর নয়। তরল আয়রনে দাঁতে দাগ পড়তে পারে; স্ট্র দিয়ে খান বা পরে দাঁত ব্রাশ করুন।
পেটব্যথার সাথে আলকাতরার মতো কালো আঠালো পায়খানা বা রক্তবমি (পেটে রক্তক্ষরণের লক্ষণ হতে পারে), মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো তীব্র এলার্জির লক্ষণ, অথবা কোনো শিশু আয়রন ট্যাবলেট গিলে ফেললে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় আয়রন সাধারণত পরামর্শ দেওয়া হয়। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রায় খান।
সতর্কতা
- দীর্ঘদিন খাওয়ার আগে রক্তস্বল্পতার কারণ পরীক্ষা করা উচিত। থ্যালাসেমিয়ার বাহক অনেক বেশি দেখা যায়, পরীক্ষায় ঘাটতি না পাওয়া গেলে তাদের আয়রন খাওয়া উচিত নয়।
- পাকস্থলীর আলসার, অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ বা আগে অন্ত্রে রক্তক্ষরণ হয়ে থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- একসাথে দুটি আয়রনযুক্ত ঔষধ খাবেন না।
- শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ছোট শিশুদের গুরুতর বিষক্রিয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি আয়রন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
আয়রনের মাত্রাতিরিক্ত সেবন বিপজ্জনক, বিশেষ করে শিশুদের জন্য। বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমি বা পায়খানায় রক্ত এবং ঝিমুনি হতে পারে। রোগী কিছুটা ভালো মনে হয়ে এক-দুই দিন পরে শক ও লিভারের ক্ষতিতে গুরুতর অসুস্থ হতে পারে। কোনো লক্ষণ না থাকলেও এখনই হাসপাতালে যান এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়রন প্রস্তুতি (রক্তস্বল্পতারোধী, রক্তবর্ধক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।