ব্যবহার
লেসিথিন হলো ফসফোলিপিড নামের কিছু চর্বিজাতীয় উপাদানের প্রাকৃতিক মিশ্রণ, যা সাধারণত সয়াবিন, সূর্যমুখী বীজ বা ডিমের কুসুম থেকে পাওয়া যায়। সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এটি কোলিনের উৎস (স্নায়ু ও লিভারের কাজে প্রয়োজনীয় একটি পুষ্টি উপাদান), লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং মস্তিষ্কের টনিক ও কোলেস্টেরল সহায়ক পণ্যের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। খাবার ও ঔষধে এটি ইমালসিফায়ার হিসেবেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ তেল ও পানিকে মিশতে সাহায্য করে। লেসিথিন সাপ্লিমেন্ট কোনো রোগ সারায় এমন প্রমাণ সীমিত।
কীভাবে কাজ করে
ফসফোলিপিড প্রতিটি কোষের আবরণের মূল উপাদান। লেসিথিনের প্রধান উপাদান ফসফাটিডাইলকোলিন শরীরে কোলিন জোগায়। শরীর কোলিন দিয়ে অ্যাসিটাইলকোলিন (মস্তিষ্কের একটি রাসায়নিক বার্তাবাহক) তৈরি করে এবং লিভার থেকে চর্বি সরিয়ে নেয়। লেসিথিন অন্ত্রে চর্বি ও চর্বিতে দ্রবণীয় পুষ্টি শোষণেও সাহায্য করতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী সেবন করুন। ক্যাপসুল সাধারণত খাবারের সময় বা পরে পানি দিয়ে গিলে খাওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উল্লেখযোগ্য কোনো ঔষধ প্রতিক্রিয়া ভালোভাবে জানা নেই। অনেক বেশি কোলিন তাত্ত্বিকভাবে ডোনেপেজিলের মতো অ্যাসিটাইলকোলিনের ওপর কাজ করা ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে। আপনি যত সাপ্লিমেন্ট নেন, সব ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- লেসিথিন বা এর উৎসে (সয়া বা ডিম) অথবা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লেসিথিন সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কারও কারও ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা বা পেট ভরা ভাব হতে পারে। খুব বেশি কোলিন নিলে শরীর থেকে মাছের মতো গন্ধ আসতে পারে।
মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ির মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
স্বাভাবিক খাবারের পরিমাণে লেসিথিন গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে নিরাপদ বলে ধরা হয়, এবং এ সময় কোলিন একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। তবে ঘন সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- সয়া বা ডিমে অ্যালার্জি থাকলে লেবেলে লেসিথিনের উৎস দেখে নিন।
- লিভারের রোগ বা উচ্চ কোলেস্টেরলের জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন; সাপ্লিমেন্ট নির্ধারিত চিকিৎসার বিকল্প নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি পরিমাণে খেলে ডায়রিয়া, পেটের অস্বস্তি, ঘাম, রক্তচাপ কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত কোলিনের কারণে শরীরে মাছের মতো গন্ধ হতে পারে। উপসর্গ তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পুষ্টি সম্পূরক (ফসফোলিপিড, কোলিনের উৎস); ঔষধ তৈরিতে ইমালসিফায়ার হিসেবেও ব্যবহৃত।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।