ব্যবহার
ফসফরাস শরীরের একটি প্রয়োজনীয় খনিজ, যা ফসফেট হিসেবে খাওয়া হয়। ঔষধ বা সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এটি ব্যবহার হয়:
- রক্তে ফসফেট কমে গেলে (হাইপোফসফেটেমিয়া) তা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়, যেমন অপুষ্টি, মদ্যপান, দীর্ঘদিন অ্যান্টাসিড সেবন, বা কিছু কিডনি ও হাড়ের রোগের পর
- হাড় ও দাঁতের সুস্থতার জন্য ক্যালসিয়াম, মাল্টিভিটামিন ও খনিজ সাপ্লিমেন্টের অংশ হিসেবে
কীভাবে কাজ করে
ফসফেট ক্যালসিয়ামের সাথে মিলে হাড় ও দাঁত তৈরি করে ও মজবুত রাখে। এছাড়া প্রতিটি কোষে শক্তি তৈরি, মাংসপেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজ এবং শরীরের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষায় এটি দরকার।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মিশ্র সাপ্লিমেন্টে লেবেলে লেখা মাত্রায় খান। রক্তে ফসফেট কম থাকলে চিকিৎসার মাত্রা রক্ত পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে, ডাক্তারের নির্দেশমতো; ফসফেট, ক্যালসিয়াম ও কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। পেটের অস্বস্তি কমাতে খাবারের সাথে বা পরে পানি দিয়ে খান। পরামর্শের বেশি খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বা ক্যালসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড এবং সেভেলামার ফসফেটের শোষণ কমায়; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
- একসাথে খেলে ফসফেট আয়রন ও জিংক সাপ্লিমেন্টের শোষণ কমাতে পারে।
- পটাশিয়াম ফসফেটযুক্ত ঔষধ স্পাইরোনোল্যাকটোন, অ্যামিলোরাইডের মতো পটাশিয়াম ধরে রাখা প্রস্রাবের ঔষধ বা এনালাপ্রিল, রামিপ্রিলের মতো এসিই ইনহিবিটরের সাথে খেলে রক্তে পটাশিয়াম বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
- রক্তে ফসফেট বেশি থাকলে
- মারাত্মক কিডনি রোগ থাকলে
- সংক্রমণজনিত ফসফেট কিডনি পাথর থাকলে
- ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাপ্লিমেন্টের মাত্রায় সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। বেশি মাত্রায় ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা ও পেট ফাঁপা হতে পারে।
মাংসপেশিতে টান বা খিঁচুনি, মুখের চারপাশে বা আঙুলে ঝিনঝিন, হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত, বিভ্রান্তি, বা প্রস্রাব স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন, কারণ এগুলো ফসফেট বেশি বা ক্যালসিয়াম কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্বাভাবিক পরিমাণ ফসফরাস দরকার, এবং সাধারণ সাপ্লিমেন্টের মাত্রা নিরাপদ বলে ধরা হয়। চিকিৎসার উচ্চ মাত্রা শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খাবেন।
সতর্কতা
- কিডনি রোগ, হৃদরোগ বা রক্তে ক্যালসিয়াম কম থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- কিডনির সমস্যা থাকলে শুধু ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ফসফেট খাবেন।
- দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খেলে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ফসফেট রক্তে ক্যালসিয়াম কমিয়ে টান, ঝিনঝিন ও খিঁচুনি ঘটাতে পারে এবং কিডনির ক্ষতি করতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন, বিশেষ করে শিশু বা কিডনি রোগীর ক্ষেত্রে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খনিজ সাপ্লিমেন্ট (ইলেক্ট্রোলাইট পূরণকারী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।