ব্যবহার
অ্যাসকরবিক অ্যাসিড হলো ভিটামিন সি এর রাসায়নিক নাম। এটি যেসব কাজে ব্যবহার হয়:
- ভিটামিন সি এর ঘাটতি ও স্কার্ভি (মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, সহজে কালশিটে পড়া, ক্লান্তি ও ক্ষত দেরিতে শুকানো) প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়।
- সংক্রমণ, অপারেশন, পোড়া বা আঘাতের পর এবং ধূমপায়ীদের বাড়তি চাহিদা পূরণে।
- আয়রনের সাথে দিলে শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করতে।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাসকরবিক অ্যাসিড শরীরে কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে, যা ত্বক, মাড়ি, রক্তনালি ও হাড় মজবুত রাখে এবং ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করে এবং অন্ত্র থেকে আয়রন শোষণ বাড়ায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক, সাপ্লিমেন্ট বা হালকা ঘাটতি: সাধারণত দিনে ১০০ থেকে ৫০০ mg।
- স্কার্ভি ও বেশি মাত্রার চিকিৎসা: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- শিশু: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন।
পেটের অস্বস্তি কমাতে খাবারের সাথে বা পরে খান। চুষে খাওয়ার ট্যাবলেট চিবিয়ে খান; ইফারভেসেন্ট ট্যাবলেট পানিতে পুরোপুরি গুলে তারপর খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- আয়রনের শোষণ বাড়ায়; রক্তস্বল্পতায় উপকারী, কিন্তু শরীরে আয়রন জমে যাওয়ার সমস্যায় এড়িয়ে চলা উচিত।
- অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড থেকে অ্যালুমিনিয়ামের শোষণ বাড়ায়।
- বেশি মাত্রায় খেলে রক্ত ও প্রস্রাবের সুগার পরীক্ষার ফল ভুল আসতে পারে।
- বেশি মাত্রায় কারও কারও ক্ষেত্রে ওয়ারফারিনের কাজ কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- অ্যাসকরবিক অ্যাসিড বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- অক্সালেট কিডনির পাথর, শরীরে আয়রন জমে যাওয়া বা কিডনির মারাত্মক রোগে বেশি মাত্রা উপযুক্ত নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ মাত্রায় সমস্যা খুব কম হয়। দিনে প্রায় ১ g এর বেশি খেলে বুকজ্বালা, বমি বমি ভাব, পেট কামড়ানো ও পাতলা পায়খানা হতে পারে, আর দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় কিডনির পাথর হতে পারে। পাঁজর বা কোমরে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক এলার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণ পরামর্শকৃত মাত্রায় নিরাপদ। বেশি মাত্রা শুধু ডাক্তারের পরামর্শে নিন।
সতর্কতা
G6PD এনজাইমের ঘাটতি থাকলে খুব বেশি মাত্রা এড়িয়ে চলুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন পরামর্শকৃত মাত্রার বেশি খাবেন না। ডায়াবেটিস বা ফিনাইলকিটোনুরিয়া থাকলে চুষে খাওয়ার ট্যাবলেটে চিনি বা মিষ্টি আছে কিনা লেবেল দেখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে সাধারণত পাতলা পায়খানা, বমি বমি ভাব ও পেট কামড়ানো হয়, যা বন্ধ করলে কমে যায়। অনেক বেশি খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে শিশু বা কিডনি রোগী হলে, ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন সি (পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইফারভেসেন্ট ট্যাবলেটের মুখ শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।