জেনেরিক ঔষধ

Iron

  • 76 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 51 টি কোম্পানি

ব্যবহার

আয়রন বা লৌহ শরীরে আয়রনের ঘাটতি এবং আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। মাসিকে বেশি রক্তপাত, গর্ভাবস্থা, অপুষ্টি, রক্তক্ষরণ ও কৃমি এর সাধারণ কারণ। প্রায়ই ফলিক অ্যাসিডের সাথে একসাথে দেওয়া হয়, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়।

কীভাবে কাজ করে

হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রন লাগে। হিমোগ্লোবিন লোহিত কণিকার সেই অংশ যা সারা শরীরে অক্সিজেন বহন করে। বাড়তি আয়রন শরীরের মজুদ পূরণ করে, ফলে যথেষ্ট সুস্থ লোহিত কণিকা তৈরি হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

মাত্রা নির্ভর করে আয়রনের লবণের ধরন ও প্রতি ট্যাবলেট বা চামচে কতটুকু আসল (এলিমেন্টাল) আয়রন আছে তার ওপর। রক্তস্বল্পতার চিকিৎসায় প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত দিনে একবার প্রায় ৬৫ থেকে ২০০ mg এলিমেন্টাল আয়রন, বা একদিন পরপর একটি মাত্রা, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খান। প্রতিরোধের জন্য, গর্ভাবস্থাসহ, সাধারণত কম মাত্রা দেওয়া হয়। খালি পেটে সবচেয়ে ভালো শোষিত হয়; পেটে সমস্যা হলে খাবারের সাথে বা পরে খান। রক্তের পরীক্ষা স্বাভাবিক হওয়ার পরও সাধারণত প্রায় ৩ মাস চালিয়ে যেতে হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। আয়রন ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • অ্যান্টাসিড, ক্যালসিয়াম, দুধ, চা, কফি ও ডিম আয়রনের শোষণ কমায়; এগুলোর সাথে প্রায় ২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।
  • আয়রন টেট্রাসাইক্লিন, ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিনসহ এই ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক, লেভোথাইরক্সিন, লেভোডোপা, পেনিসিলামিন ও অ্যালেন্ড্রোনিক অ্যাসিডের মতো বাইসফসফোনেটের শোষণ কমায়। এগুলো অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান (লেভোথাইরক্সিনের ক্ষেত্রে ৪ ঘণ্টা)।
  • ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) বা কমলার রস শোষণ বাড়াতে পারে।

কারা খাবেন না

শরীরে আয়রন জমে যাওয়ার রোগ (হিমোক্রোমাটোসিস, হিমোসিডেরোসিস) থাকলে; আয়রনের অভাব ছাড়া অন্য কারণে রক্তস্বল্পতা হলে (যেমন কিছু ধরনের থ্যালাসেমিয়া বা হিমোলাইটিক এনিমিয়া), যদি না ডাক্তার আয়রনের ঘাটতি নিশ্চিত করেন; বারবার রক্ত নেওয়া রোগী; এবং কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ: পায়খানা কালচে বা কালো হওয়া (ক্ষতিকর নয়), বমিভাব, পেটে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া। তরল আয়রন দাঁতে দাগ ফেলতে পারে; স্ট্র দিয়ে খান এবং পরে মুখ কুলি করুন।

রক্তবমি, পেটে ব্যথা বা মাথা ঘোরার সাথে আলকাতরার মতো কালো পায়খানা, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক এলার্জির লক্ষণ (ইনজেকশনে বেশি সম্ভাবনা) দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় আয়রন ব্যাপকভাবে ব্যবহার ও পরামর্শ করা হয়।

সতর্কতা

  • কারণ না জেনে রক্তস্বল্পতার জন্য আয়রন খাবেন না; রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
  • পেটের আলসার, অন্ত্রের রোগ বা থ্যালাসেমিয়া থাকলে ডাক্তারকে জানান।
  • পরামর্শ ছাড়া একসাথে দুটি আয়রনযুক্ত ঔষধ খাবেন না।
  • আয়রন ট্যাবলেট শিশুদের থেকে অবশ্যই দূরে রাখুন; ছোট শিশুদের জন্য আয়রনের বিষক্রিয়া বিপজ্জনক।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

আয়রনের ওভারডোজ জরুরি অবস্থা, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। প্রথমে বমি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা ও ঝিমুনি হয়; কিছুক্ষণ ভালো মনে হলেও পরে গুরুতর অসুস্থ হতে পারে। শিশু ভালো দেখালেও সাথে সাথে হাসপাতালে নিন এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

আয়রন প্রস্তুতি (রক্তস্বল্পতারোধী, হিমাটিনিক)।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Iron এর ব্র্যান্ড

2 টি ব্র্যান্ড

Iron যুক্ত কম্বিনেশন ঔষধ

74 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।